ওসি ফিরোজ তালুকদারের অক্লান্ত চেষ্টায় ময়মনসিংহ সদরের আইনশৃঙ্খলা ব্যাপক উন্নতি

0
269

সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন উর রশিদ (বিপিএম) এর দিকনির্দেশনায় ও ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (পিপিএম-সেবা) এর নির্দেশে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফিরোজ তালুকদার (পিপিএম-বার) এর সার্বিক তত্বাবধানে কোতোয়ালী থানা পুলিশ নতুন উদ্যামে কাজ করে যাচ্ছে। ওসি ফিরোজ তালুকদারের নেতৃত্বে দক্ষ পুলিশ অফিসারদের নিয়ে সদরের প্রায় ১০ লাখ মানুষের অনবরত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওসির তত্বাবধানে ও নিপুণ মেধায় সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন এবং জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। কোতোয়ালী মডেল থানা’র স্বল্প পুলিশ সদসদের নিয়ে সদরের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জান-মালের নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ও সেবা দেয়া সহজ কথা নয়! কিন্তু মেধা সম্পন্ন ইন্সপেক্টর ফিরোজ তালুকদারের অক্লান্ত চেষ্টায় সদরের আইনশৃঙ্খলা ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। তিনি যে কোন ঘটনা সনাক্তকরণ ও অপরাধ নির্মূলে কারিশমা দেখিয়ে যাচ্ছেন।

ওসি ফিরোজ তালুকদার সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে দক্ষ পুলিশ অফিসারদের নিয়ে কয়েকটি আভিযানিক টিম গঠন করেছেন। এই আভিযানিক টিম কোতোয়ালী থানা ও ৩টি ফাঁড়িতে ২৪ ঘন্টা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে সফলতা বয়ে এনে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা’র ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে যাচ্ছেন। যার কৃতিত্বের দাবিদার ওসি ফিরোজ তালুকদার।

কোতোয়ালী পুলিশ জানায়, গত জানুয়ারি/২০২১ মাসে কোতোয়ালী মডেল থানায় ১০৭টি মামলা রুজু হয় ও ১৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং নিষ্পত্তি হয় ১২৩টি মামলা। জানা যায়, মামলাগুলোর মধ্যে ২০টি মাদক মামলায় ২৩১ পিস ইয়াবা, ৪১ গ্রাম হেরোইন, ৮৩০ গ্রাম গাঁজা ও ৩০ পিস নেশা জাতীয় ইনজেকশন উদ্ধারসহ মোট ২৯ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও ফাঁড়ি পুলিশ।

কোতোয়ালী পুলিশ আরো জানায়, ফেব্রুয়ারি/২০২১ মাসে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩টি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাসহ ৯১টি মামলা রুজু হয় এবং চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড ঘটার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারে সক্ষম হয়। চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের সাফল্যের মধ্যে চরগোবিন্দ এলাকায় বন্ধুদের হাতে খুন মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিবের হত্যাকারী কবিরকে গ্রেফতার করা ও কেওয়াটখালি রেল লাইনের পাশে আশিক ইমরানকে খুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হত্যাকারী রাজিকুল ইসলাম রুবেল এবং তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানাকে গ্রেফতার করা। এই সব চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।

এছাড়া ফেব্রুয়ারি/২০২১ মাসে ২৩ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত কোতোয়ালী মডেল থানায় জিআর ও সিআর ৭৬টি ওয়ারেন্ট ও ৩টি সাজা নিষ্পত্তি হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৪টি মাদক মামলায় উদ্ধার হয় ১১০ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা, ২৩ পিস নেশা জাতীয় ইনজেকশন ও ৪ বোতল বিদেশি মদসহ ২৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। এছাড়াও ২টি ছিনতাই মামলায় ৫ জনকে গ্রেফতার ও ৪টি চুরি মামলায় গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

কোতোয়ালী পুলিশ এসময় জানায়, দ্রুত বিচার আইনে ও ২টি ছিনতাই মামলায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং চাঞ্চল্যকর একটি অপহরণ মামলার আসামী গ্রেফতারসহ ভিকটিককে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গরু চুরিসহ ১০টি চুরি মামলা রুজু হয় এবং চুরি হওয়া গরু, স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

সদরের আইনশৃঙ্খলা’র সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক মাটি ও মানুষ পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক একেএম ফখরুল আলম বাপ্পী চৌধুরী প্রতিবেদনকে জানান, ময়মনসিংহের আইনশৃঙ্খলা’র সার্বিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। থানা পুলিশ দ্রুত কাজ করছে বলেই সফলতা পাচ্ছে। তিনি ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন উর রশিদ ও ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান এবং কোতোয়ালী পুলিশের সার্বিক সাফল্য কামনা করেছেন।

সদরের আইনশৃঙ্খলা’র সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও দৈনিক উর্মিবাংলা প্রতিদিন পত্রিকার আইন উপদেষ্টা আব্দুর রহমান আল হোসাইন তাজ প্রতিবেদনকে জানান, ওসি ফিরোজ তালুকদারের তত্বাবধানে সদরের আইনশৃঙ্খলা উন্নতি লাভ করেছে এবং বিছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সদরের আইনশৃঙ্খলা ভাল পর্যায়ে আছে। তিনি বলেন সুদক্ষ ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন উর রশিদ ও সুযোগ্য ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান এর দিকনির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।

সদরের আইনশৃঙ্খলা’র সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোঃ ফিরোজ তালুকদার প্রতিবেদনকে বলেন সুযোগ্য ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন উর রশিদের দিকনির্দেশনায় ও সুযোগ্য ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামানের নির্দেশে কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় অপরাধ নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে ৪৪টি বিট এলাকা নির্ধারন করা হয়েছে এবং প্রতিটি বিট এলাকায় নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার রয়েছেন। এসব বিট অফিসাররা সর্বক্ষণ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার সাধারণ জনগণের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে আমাকে জানায়। অধিকাংশ এলাকায় অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আগেই আমি ব্যবস্থা নিতে পারছি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরাধ সংগঠিত হলেও আমার থানার অফিসাররা দায়িত্বের সাথে কাজ করে দ্রুত রহস্য উদঘাটন করছে। এছাড়া ময়মনসিংহ সদরে আমার থানা’র পুলিশ ২৪ ঘন্টা মোবাইল টিমের মাধ্যমে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি নিম্ন পর্যায় নিয়ে এসেছে।

ওসি ফিরোজ তালুকদার আরো বলেন, কোতোয়ালী থানা এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা দিতে ১২০ জন পুলিশ সদস্য প্রতিদিন মাঠে কাজ করে যাচ্ছে এবং রাত ৩ টার পর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো’র নির্দেশ প্রদান করেছি। এছাড়া দিনের বেলায় ৪টি টহল, ৪টি পিকেট ও মটরসাইকেল টিম অনবরত কাজ করে যাচ্ছে এবং রাতে ৬টি মোবাইল টিম, ৬ টি হোন্ডা টিম, ৩টি সিএনজি মোবাইল টিম কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষার্থে টহল দিয়ে যাচ্ছে। তিনি সদরের আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে সদরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here